নিুমানের কাজ, তদারকির অভাব ও ভুল পরিকল্পনা সিরাজগঞ্জ বাঁধ ভাঙ্গার কারণ
নিুমানের কাজ, তদারকির অভাব ও ভুল পরিকল্পনা সিরাজগঞ্জ বাঁধ ভাঙ্গার কারণ
 
আজ ১২ আগস্ট ২০০৯ সকাল ১১:০০ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এর উদ্যোগে “বিলীন হওয়ার পথে সিরাজগঞ্জ রক্ষা বাঁধ ঃ কারণ ও করণীয়” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেনÑবাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ. ম. ম. সফিউল্লাহ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এম. এ. মতিন বিভাগ প্রধান, পানি সম্পদ বিভাগ, বুয়েট। নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন-ড. মমিনুল হক সরকার, বিভাগীয় প্রধান, মরফলজি, সিইজিআইএস। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী শফিউদ্দীন সরকার। এছাড়াও আরো বক্তব্য রাখেন- কবীর বীন আনোয়ার, ডাইরেক্টর এডমিন, প্রধানমন্ত্রী দপ্তর। প্রফেসর ড. আবু হোসাইন সিদ্দীকি, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ডিপার্পমেন্ট, ঢাঃবিঃ প্রমুখ।
 
সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধটি ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখিন। বাঁধ নির্মানের সময় মাটিকে সঠিকভাবে ট্রিটমেন্ট না করে নরম মাটিতে বাঁধ নির্মান করা হয়েছিল। পরবর্তিতে তদারকির গাফিলতি এবং নির্মাণে দুর্নীতি সহ অনেক কারণ জড়িত এ বাঁধ ভাঙ্গায়। নির্মানের সময় সিরাজগঞ্জের হার্ড পয়েন্টে বড় ধরণের ক্ষতি সাধন হয় ১৯৯৮ সালে। পরবর্তিতে এটা মেরামত করা হয়। মেরামতের ফলে এবং মেইনটেনের কারণে বড় আকারের ক্ষতি সাধন হয়নি। গত দুই বছর ধরে যমুনা নদীতে নতুন একটি প্রবাহ তৈরি হচ্ছে এবং এ প্রবাহের বৃদ্ধি ও প্রবাহের ধরণের জন্য নতুন জায়গা নদীর প্রবাহ তিব্র হয় এবং প্রবাহের ধরণের জন্য বর্তমান স্থানে ক্ষতির একটি বড় কারণ। এই প্রবাহ পরিবর্তনের কারণে প্রবাহ বাঁধের কাছের দিকে হয়ে যাচ্ছে এবং বাধের কাছের তলদেশের মাটি ক্ষয় হচ্ছে। তলদেশের সিসি ব্লকগুলো সরে গেছে এবং নদীর তীরের ব্লকগুলো তীরে রাখার মতো শক্তি কমে যাওয়ায় তীর বা বাঁধ ভাঙ্গনের সৃষ্টি হচ্ছে। 
 
সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধটি জাতীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। একদিকে সিরাজগঞ্জ শহর ও সংশ্লিষ্ট ভাটি এলাকার মানুষের টিকে থাকার জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ন তেমনি বঙ্গবন্ধু বহুমুখী যমুনা সেতুর অস্তিত্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ন। তাছাড়া এটি সেতুকে রক্ষাকল্পে যমুনা নদীকে নিয়ন্ত্রণ করার নিমিত্ত বর্তমান ও ভবিষ্যত দিক নির্দেশনার জন্যও গুরুত্বপূর্ন। সিরাজগঞ্জ শহরকে রক্ষার জন্য বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। সর্বশেষ বিদেশী কোম্পানী দ্বারা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। তারপরেও এ বাঁধ বিলীন হবার পথে। 
 
যমুনা নদীর গতিরোধ ও নদী শাসন এবং ড্রেজিং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তাছাড়া যথাযথ গবেষণা, যেমন নদীর প্লান ফর্ম স্টাডি ও গাণিতিক মডেলের মাধ্যমেও নদীর গতিবিধি নির্ধারণ ও নদী শাসন করা প্রয়োজন। দেশের নদী ভাঙ্গন রোধ না করাতে ভাঙ্গন কবলিত মানুষ বাড়ি ঘর, সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে এবং তারা নিরুপায় হয়ে শহরমুখি হচ্ছে, আর শহরগুলোও জনসংখ্যার বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। 
 
ক্স সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ রক্ষা কল্পে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরী। অন্যান্য নদীর থেকে যমুনা নদীর প্রবাহ আকাবাকা হওয়ায় এবং স্বকীয় ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট থাকায় এই নদীর গতি প্রবাহ নিত্যনৈমিত্তিক পরিবর্তন, ভাঙ্গন প্রক্রিয়া, বন্যা, পরিবেশগত তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ, আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উদভাবন, বিশ্লেষন এবং তা প্রয়োগে আধুুনিক ভিত্তিতে যমুনা নিয়ন্ত্রণে একটি স্বতন্ত্র নদীর কমিশন গঠন করা হোক।
ক্স প্রতিনিয়ত ভৌগলীক পরিবর্তন প্রবাহের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের গ্লোবাল পজিশনের সিস্টেম নির্ভর আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যম চালু রয়েছে যমুনা নদীর মত পরিবর্তনশীল নদীর তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের জন্য বিআইডাব্লিউটিএ (ইওডঞঅ)  নির্ভর জরিপে দক্ষ সরকারী সংস্থাকে নিয়োজিত করা হোক।    
নদী শাসন করতে যেয়ে উজান থেকে পানি প্রবাহের বাধা সৃষ্টি করার ফলে নদীর স্রোত ধারা ব্যহতের কারণে দেশের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে যা আমাদের পরিবেশের জন্য বিরুপ প্রভাব সৃষ্টি করবে।